×
  • প্রকাশিত : ২০২১-০৩-০৪
  • ১৪৩২ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো, এক দশকেরও বেশি আগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে এমন রূপকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় দেশটি। তখন হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করেনি এটা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব। রূপকল্প-২০২১ এর প্রবক্তা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন দায়িত্বভার নেন, বাংলাদেশে তখন মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র দুই কোটি। কিন্তু সেই সংখ্যাটি এখন ১২ কোটিতে পৌঁছেছে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামের লাখ লাখ মানুষ এখন দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় এসেছে। ফলস্বরূপ অসংখ্য জীবন ও জীবিকার অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে।

 

২০০৯ সালে প্রবর্তিত সুদূরপ্রসারী ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনাটি সাজানোই হয়েছিলো মূলত জটিল ও কাগজ-ভিত্তিক সরকারি পরিষেবাগুলোকে সহজেই ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ভিত্তিক করে গড়ে তোলার জন্য। ই-স্বাক্ষর এবং অনলাইনভিত্তিক নিবন্ধনসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রমকে তখন ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়। এই ডিজিটাল পরিকল্পনা সেবা ব্যাপকভাবে কাজেও দেয়। সরকার ৮,৫০০ ডিজিটাল সেন্টার তৈরির মাধ্যমে সারাদেশে একটি শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেগুলো কিনা বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই জনজীবনের সর্বস্তরে প্রায় সকলক্ষেত্রে অনলাইন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল কেন্দ্রগুলো মূলত জন্ম নিবন্ধন, চাকুরীর সন্ধান এবং স্বাস্থ্য সেবাতে অনলাইন ভিত্তিক সেবা প্রদান করে। বিভিন্ন ধরণের জাতীয় সেবাগুলো অনলাইনের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। গত বছর করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট লকডাউনের সময় সরকারি সেবা প্রদানে কোন ধরণের সমস্যা হয়নি বললেই চলে। এমনকি মহামান্য আদালত একটি নতুন বিচার বিভাগীয় পোর্টালের সহায়তায় কাজ চালিয়ে গিয়েছে। কৃষি পোর্টালের মাধ্যমে কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যসহ চাষাবাদ সম্পর্কিত অন্যান্য সকল ধরনের তথ্য পেয়েছে। বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে করোনা ভাইরাসের সকল তথ্য জানানো হয়েছে। 

 

বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি পোর্টালগুলোর একটি হিসেবে গর্বিত যার মাধ্যমে প্রায় সকল ধরণের সরকারি  সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। দেশটির লক্ষ্য হচ্ছে ৮৫% সেবা কেবলমাত্র স্মার্টফোনের একটি আঙুলের চাপের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রদান করা, ১০% তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া, বাকি ৫% নাগরিক সেবার জন্য সরকারি অফিসে যেতে হতে পারে। এতোগুলো সরকারি সেবা প্রদানের পদ্ধতিকে এমনভাবে  অনলাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে যে, পাসপোর্ট পাওয়া থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন সবকিছুতেই এক অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। মূলত মোবাইল ফোনগুলিই এই সাফল্যের গল্পের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশে বর্তমানে একটি  টোলমুক্ত জাতীয় জরুরী হেল্পলাইন ৯৯৯ রয়েছে,  যার মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা সাইবার অপরাধ, নারীর প্রতি সহিংসতা, অগ্নিকাণ্ড ও জরুরী চিকিৎসা সেবাসহ যেকোন ধরণের দুর্ঘটনা ও অপরাধের জন্য রিপোর্ট করতে পারেন। জাতীয় সহায়তা ডেস্ক প্রতি মিনিটে ৬০ টি কলকে সাড়া দেয়। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশলীদের ধন্যবাদ, কারণ টেলিমেডিসিন বর্তমানে আর স্বপ্ন নয়, শহর এলাকাসহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলেও এটি সাধারণ বিষয়ে রূপ নিয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য প্রচার এই সেবার অন্তর্ভূক্ত যা্র ফলে আপামর জনসাধারণ দিন দিন সুস্বাস্থ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সরকার আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতার আওতায় এসেছে। অনলাইনে অভিযোগ সমাধানের ব্যবস্থা নাগরিকদের সরকারি পরিষেবা ও পণ্য সম্পর্কে অভিযোগ জমা দেয়া এবং সমাধানের ব্যবস্থাকে সহজতর করেছে।

 

এই ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থাপনা অর্থনীতির উন্নয়নসহ কর্মসংস্থানে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। নানা ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দক্ষ ও ডিজিটাল-রেডি কর্মী তৈরিতে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি বছরে প্রায় পাঁচ (৫,০০,০০০) লক্ষ দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণ শেষে বেরিয়ে আসছে। এর মধ্যে গতবছর কেবল ৬৫,০০০ দক্ষ কর্মী বের হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরেই। ডিজিটাল কেন্দ্রগুলো নিজেরাই এক একটি কর্মসংস্থান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি ৩ জনে ১ জন নারী কর্মী  নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশের বয়সই ২৫ এর নীচে হওয়ায় এটি সাইবার কর্মী উৎপাদনের এক উর্বর ভূমি। তরুণ সমাজ এই সুযোগগুলো লুফে নিচ্ছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে এই তরুণদের বেশিরভাগই তাদের পরিবারিক গন্ডির বাইরে অন্যকোন জীবন কল্পনাও করতে পারেনি। বর্তমানের এই তরুণ  বাংলাদেশীরা ক্রমবর্ধমান শহুরে যুগোপযোগী এবং নতুন অর্থনীতি ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য প্রস্তুত। 

ডিজিটালাইজেশন থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি প্রযুক্তিবিদ বাংলাদেশকে তাদের আবাসস্থল করে তুলেছে। বর্তমানে দেশে দশ (১০,০০০) হাজারের বেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রয়েছে। সব মিলিয়ে তারা এখন তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবাগুলি থেকে বছরে এক  বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে। অন্যদিকে, ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশীরা ২ বিলিয়ন ঘন্টা, ৮ বিলিয়ন ডলার এবং ১ বিলিয়ন সরকারী পরিদর্শন সাশ্রয় করেছে।

 

বাংলাদেশ এখন আকাশছোঁয়া সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ তার প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু -১ উৎক্ষেপণ করেছে। উপগ্রহ টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের এক অনন্য বিশাল ঘটনা এবং আমাদের অর্থনীতিকে এটি বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। এ এক অভূতপূর্ব বিচরণ, এক অনন্য অর্জন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আজ এটি ৮ শতাংশে শীর্ষে রয়েছে। নিঃসন্দেহে এই বৃদ্ধির পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে এক বিশেষ সংযোগ, যা  রূপকল্প হিসেবে আগেই হাতে নিয়েছিলো বর্তমান সরকার।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। এই ইন্টারনেট যুগের নাটকীয় উত্থানের পাশাপাশি আরো অনেক বিশাল অর্জন তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। আমরা এখন ডিজিটাল দক্ষতা রফতানিও করছি। বাংলাদেশী প্রশিক্ষকরা মালদ্বীপ, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কায় আমাদের এশীয় প্রতিবেশীদের ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করছেন। এক দশক আগে কেউই তা সম্ভব হবে বলে ভাবেননি। 

- সজীব ওয়াজেদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা।

Newsweek পত্রিকা হতে বাংলায় বাংলায় অনুবাদকৃত

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat